
জি.এম. ফিরোজ, ডুমুরিয়া
সারাদেশে সবজি চাষিরা ন্যায্য দাম না পেয়ে যখন হতাশ, তখন ব্যতিক্রমী চিত্র খুলনার ডুমুরিয়ায়। মাছের ঘেরের আইলে অসময়ের তরমুজ চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩০৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠ থেকেই তরমুজ কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শরাফপুর, শোভনা, আটলিয়া, মাগুরখালী, ডুমুরিয়া সদর ও ভাণ্ডারপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বিলে অসময়ের তরমুজের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে নলঘোনা বিলে ঘেরের আইলজুড়ে এখন চোখে পড়ছে মাচায় ঝুলে থাকা ছোট-বড় তরমুজ।সরেজমিনে নলঘোনা বিলে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘেরের আইলে রঙিন নেটের ব্যাগে ঝুলছে তরমুজ। কৃষকদের ব্যস্ত সময় কাটছে পরিচর্যায়। চাষিরা বলছেন, মাছের পাশাপাশি ঘেরের আইলে তরমুজ চাষ করে অতিরিক্ত আয় সম্ভব হচ্ছে।নলঘোনা বিলের তরমুজ চাষের পথিকৃৎ জাবেদ আলী শেখ (৬৮),মোঃ মিজানুর গাজী (৫৫) জানান, পাঁচ বছর আগে শখের বসে তরমুজ চাষ শুরু করেন। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় পরবর্তীতে দুইটি ঘেরে চাষ করেন। গত ২১ আগস্ট চলতি মৌসুমের প্রথম ফল বিক্রি করে ৬১ হাজার টাকা পেয়েছেন। এবার দুই ঘের থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।তরমুজ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ১১টি পিকআপে ডুমুরিয়ার তরমুজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। আরও প্রায় দুই মাস এ ব্যবসা চলবে।তবে সাফল্যের পাশাপাশি অভিযোগও রয়েছে। কৃষক নারায়ণ মণ্ডল বলেন, বিলে তরমুজ গাছে ভাইরাসের আক্রমণে অনেক গাছ নষ্ট হচ্ছে। কৃষি অফিসের পর্যাপ্ত সহযোগিতা ও নিয়মিত পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। অন্যদিকে স্থানীয় আড়তে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, তরমুজ চাষিদের যথাসম্ভব সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ বছর কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।ডুমুরিয়ার ঘেরের আইলে অসময়ের তরমুজ এখন শুধু কৃষকের বাড়তি আয়ের পথ নয়, তৈরি করেছে নতুন কৃষি-বাণিজ্যের সম্ভাবনা। তবে রোগবালাই ও বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এ চাষ আরও লাভজনক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
